স্টাফ রিপোর্টার ॥
হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- ১৭ বছর পর আমাদের মধ্যে ভোটের উৎসব ফিরে এসেছে। এই উৎসব যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সে জন্য আমাদের চোখ কান খোলা রাখতে হবে। এই দেশ আমাদের, আমরা গর্ব করি আমরা এই দেশের নাগরিক। এই দেশ কারা পরিচালনা করবে, কাদের হাতে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নিরাপদ সেই সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে। সকাল সকাল ভোট সেন্টারে যেতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের সকলকে ভোট দিতে হবে। সারাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ বিএনপির পক্ষে, ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ধানের শীষ উন্নয়নের প্রতীক, গণতন্ত্রের প্রতীক, সমৃদ্ধির প্রতীক, ইসলামী মূল্যবোধের প্রতীক, সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক, শান্তির প্রতীক, মানুষের আস্তা ও বিশ্বাসের প্রতীক। ধানের শীষে ভোট দিতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি গতকাল শুক্রবার লাখাই উপজেলার ৬নং বুল্লা ইউনিয়নে দিনভর লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও বিভিন্ন পথসভায় বক্তব্য রাখেন।
জি কে গউছ বলেন- গত ১৭ বছর ভোটের কোনো মূল্য ছিল না। মানুষ ভোট সেন্টারে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল। কারণ ভোট দিলেও ছিল যা, ভোট না দিলেও ছিল তা। ভোটের ফলাফল ছিল পূর্ব নির্ধারিত। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে আওয়ামীলীগ তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিল। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আওয়ামীলীগ ধ্বংস করে দিয়েছিল। এই অপকর্মের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে আওয়ামীলীগ আজ ঘর ছাড়া, দেশ ছাড়া।
তিনি বলেন- গত ১৭ বছর দেশের তরুণ-তরুণীরা ভোট দিতে পারে নাই। ব্যালট পেপার কি জিনিস অনেকই বলতে পারবে না, কারণ তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, ব্যালট পেপার স্পর্শ করার সুযোগ তাদের হয়নি, তাদের পছন্দের প্রার্থীর মার্কায় সীল দেয়ার অভিজ্ঞতা তারা অর্জন করতে পারে নাই। এর চেয়ে লজ্জা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য আর কিছু হতে পারে না। এর জন্য দায়ি ছিল ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ। আওয়ামীলীগ জনগণের ভোট হাইজেক করে কেয়ামত পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল।
জি কে গউছ বলেন- বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ জন্য খালেদা জিয়া মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। এই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সমাজে নারীরা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মেয়েদের অগ্রগতি হয়েছে, নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। খালেদা জিয়া বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালিন ভাতা চালু করেছিলেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়েছে মায়েদের কল্যাণে কাজ করেছে।
তিনি বলেন- বিএনপি মানেই কৃষি বান্ধব সরকার। বিএনপি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় গিয়ে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুপ করেছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কৃষক বাচঁলে দেশ বাচঁবে। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদ সহ মওকুপ করা হবে। কৃষি কার্ড দেয়া হবে।
প্রচারণায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফরিদ মিয়া, বিএনপি নেতা এডভোকেট শফিক তালুকদার, বুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোক্তাদির তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মাহবুব আলম মালু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি আবুল খায়ের অপু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মিয়া মোঃ লায়েছ, হাজী আব্দুল কবির, হাজী গোলাম কিবরিয়া, ইউনুছ মিয়া, মিজানুর রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।