স্টাফ রিপোর্টার ॥
হবিগঞ্জে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে এখানকার পানি, বাতাস ও মাটি দূষণ চরমে পৌঁছেছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সুতাং নদী ও নদী সংলগ্ন গ্রাম সমূহে ভয়াবহ দূষণ করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে নদী সংশ্লিষ্ট গ্রামসমূহে। ইতোমধ্যেই দেশর অন্যতম দূষিত নদী হিসেবে হবিগঞ্জে লাখাইয়ের সুতাং নদী পরিচিতি পেয়েছে। ভুক্তভোগী মানুষসহ প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে দূষণ কবলিত সুতাং নদী পরিদর্শনকালে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ এক কথা বলেন।
দূষণ কবলিত সুতাং নদীর বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)'র কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল ও এলাকার নাগরিক সমাজের একাংশ। তাঁরা আগামী জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এই অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষা ও সুতাং নদীকে দুষণমুক্ত করার অঙ্গীকার প্রত্যাশা করেন। প্রফেসর মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও শিল্প আইনের তোয়াক্কা না করে হবিগঞ্জে শিল্প কারখানাগুলো চলছে। শিল্প কারখানাগুলোতে ইটিপি থাকলেও এগুলোর অনেকটাই চালু রাখা হয় না। সুতাং নদী, শৈলজুড়া খাল ও জলাশয়সমূয়ের দূষণ এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ। পরিবেশ দূষণ বন্ধ না হলে হবিগঞ্জে যে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে তা আরো ভয়াবহ হবে।
খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ২০১০ সালের পর হবিগঞ্জে শিল্পায়ন শুরু হলেও ২০১৪ সাল থেকে এতদঞ্চলের মানুষ ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের শিকার। জীব বৈচিত্র মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। সুতাং নদী হয়ে হাওরের মাধ্যমে মেঘনা নদীতে পতিত হচ্ছে শিল্পবর্জ্য দূষণ। যার চূড়ান্ত গন্তব্য বঙ্গোপসাগর। পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন- সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন খোয়াই বন্ধন এর সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অফ হবিগঞ্জ (ঊষা)'র সভাপতি শাকিল হাসান, বুল্লাবাজার ব্যকস এর সভাপতি মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরী সোনাই, লাখাই উপজেলা যুব ফোরাম এর আহবায়ক আকিব শাহরিয়ার, সাংবাদিক সুমন আহমেদ বিজয় প্রমুখ।