মহাসড়কের নবীগঞ্জে বালু সরবরাহ কাজে বাধা দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
তারিখ: ১০-ফেব্রুয়ারী-২০২৬
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

 নবীগঞ্জ উপজেলায় বালু সরবরাহ করার পাইপ লাইন স্থাপনের কাজে বাধা প্রদান করে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি এবং হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিবার সকালে উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল পাওয়ার প্ল্যান্টের পশ্চিম পাশে এই বর্বরোচিত  হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং নগদ টাকাসহ লক্ষাধিক টাকাসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে মো. শাহিন ফরাজী বাদী হয়ে নবীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, পারকুল গ্রামের মৃত সুলেমান উল্লার ছেলে দুলাল মিয়া (সাবেক মেম্বার), হেলাল মিয়া, দুলাল মিয়ার ছেলে, রহিম মিয়া মৃত আজকর উল্লার ছেলে, মতিন মিয়া, লোকমান মিয়া। এছাড়াও আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. শাহিন ফরাজী ও তার সহযোগীরা মেহরাম ওয়ার হাউজ বিডির হয়ে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এডভাইজার এক্সপ্রেস গ্রুপ ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বালু উত্তোলনের পাইপ লাইনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কাজে বাধা প্রদান করে। তারা এই এলাকার ওপর দিয়ে পাইপ লাইন নিতে হলে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। শাহিন ফরাজী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুলাল মিয়ার নির্দেশে তার ভাই হেলাল মিয়া তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় মতিন মিয়া লোহার রড দিয়ে শাহিন ফরাজীর মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি কোনোমতে আত্মরক্ষা করেন, তবে রডটি তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচে লেগে হাড়ভাঙ্গা গুরুতর জখম হয়। একই সময়ে রহিম মিয়া জিআই পাইপ দিয়ে মোবাশ্বির খন্দকারকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তিনি তা প্রতিহত করতে গিয়ে ডান হাতের কনুইয়ে মারাত্মক আঘাত পান। বিবাদীরা কোম্পানির অন্যান্য কর্মচারীসহ সজল মিয়াকেও বেধড়ক মারধর করে জখম করে। হামলার হুমকির মুখে প্রাণের ভয়ে শ্রমিকরা পালিয়ে গেলে হামলাকারীরা শাহিন ফরাজীর পকেটে থাকা শ্রমিকদের বেতনের নগদ ১ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া  হেলাল মিয়া ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ওয়েল্ডিং মেশিন এবং  দুলাল মিয়া ও তার পুত্র  রাহিম মিয়া বিবাদীর নেতৃত্বে ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি জেনারেটর লুট করে নিয়ে যায়। হামলাকারীরা প্রাণে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া বলটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।