মা-বোনদের নিয়ে কটুক্তির জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিতে হবে
তারিখ: ১০-ফেব্রুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই, শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- একটি দল আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছে। এ দলটি একাত্তরের (২য় পাতায় দেখুন) দোসর, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি, বাংলাদেশে লাখো শহীদের কবর রচনাকারী, এই দলটির নেতা আমাদের পার্শ্ববতি মৌলভীবাজার জেলায় নিজ আসনে বার বার নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছেন। তিনি এখন স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন, এর চেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে। এই মুরুব্বি আমাদের মা-বোনদের নিয়ে লজ্জাজনক কটুক্তি করেছেন, এর জবাব ব্যালটের মাধ্যমে আমাদের মা-বোনদেরকেই দিতে হবে। এবারের ভোট স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার ভোট, মায়েদের ইজ্জত আব্রু হেফাজতের ভোট, আমাদের তরুণ সমাজকে বিপদগামীদের হাত থেকে রক্ষার ভোট।
তিনি গতকাল সোমবার বিকালে হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে ধানের শীষের সমর্থনে সর্বদলীয় এক বিশাল জনসভায় এসব কথা বলেন।
সভায় জি কে গউছ আরও বলেন- ১৭ বছর পর আমাদের মধ্যে উৎসবমুখর নির্বাচন ফিরে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোটারের দরজায় কড়া নাড়ছে। আমরা ভোটারদের জাগ্রত করার চেষ্টা করছি। এই দিন এমনি এমনি আসেনি। এই ভোটের জন্য ১৭ বছর খুন গুম হত্যা নির্যাতন মামলা হামলার শিকার হয়েছে বিএনপি। এই ভোটকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। এবারের ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মানুষকে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছিল, যারা ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যায় সরাসরি সহায়তা করেছিল, যারা মা-বোনদের তুলে দিয়ে সম্ভ্রমহানী করিয়েছিল, তারা আজ আমাদের নির্বাচনের প্রতিপক্ষ। যারা ছিল দেশের বিরুদ্ধে, মানুষের বিরুদ্ধে, তারা এখন দেশ পরিচালনা করতে চায়। তাদের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।
তিনি বলেন- বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক, রণাঙ্গণে একজন সেক্টর কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, কেতাবপ্রাপ্ত বীরোত্তম। সেই জিয়াউর রহমানের প্রতীক ধানের শীষ। বাংলাদেশের সাবেক ৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যার জীবনে কোনো নির্বাচনে পরাজয় বরণ করতে হয়নি, তিনি বাংলাদেশের ২৬ আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই খালেদা জিয়ার প্রতীক ধানের শীষ। তাই সারাদেশে ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
জি কে গউছ বলেন- খুব আফসোস ছিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পেছনে পেছনে হেঁটে সংসদে যাবো, কিন্তু তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। খালেদা জিয়ার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা এনে হবিগঞ্জে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। একটি পায়জামা শহর থেকে আধুনিক পৌরসভায় রূপান্তর করেছি। ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে অন্য ১০জন এমপি যা করতে পারবে না আমি সেই উন্নয়ন করবো।
তিনি বলেন- বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ জন্য খালেদা জিয়া মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। এই শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সমাজে নারীরা আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মেয়েদের অগ্রগতি হয়েছে, নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। খালেদা জিয়া বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃত্বকালিন ভাতা চালু করেছিলেন। বিএনপি যখনই রাষ্ট্র ক্ষমতায় গিয়েছে মায়েদের কল্যাণে কাজ করেছে।
তিনি বলেন- বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মায়েদের সম্মানে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন ফ্যামেলী প্রধান নারী প্রতি মাসে চাল ডাল সহ দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার খাদ্য সামগ্রী পাবেন। যার মাধ্যমে পরিবারগুলোতে স্বচ্ছলতা আসবে, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, মর্যাদা বাড়বে এবং ক্ষমতায়ন হবে।
তিনি বলেন- বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক সার, বীজ, কিটনাশক সহ কৃষি উপকরণ পাবে। রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা পাবে। বিএনপি ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদ সহ মওকুপ করেছিল। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুপ করা হবে।
জি কে গউছ বলেন- বেকার যুবকদের কারিগরি শিক্ষা, কর্মক্ষম খাত গড়ে তোলার জন্য অনেক পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। আমাদের দেশের বহু মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যায়। এই মানুষগুলো দক্ষ শ্রমিক হিসেবে যায় না। এই মানুষগুলোকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেবো যাতে তারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে স্বাবলম্বী হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়াও দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্য সরকারি ভাতা দেয়া হবে। বিএনপির পরিকল্পনা আছে, প্রতিশ্রুতি আছে এবং আমরা তা বাস্তবায়ন করব।   
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম ইসলাম তরফদার তনু’র সভাপতিত্বে ও সাবেক যুগ্ম আহবায়ক হাজী এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি আব্দুল হান্নান চৌধুরী, মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী সামছু মিয়া, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজ উদ্দিন খান, মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট এনামুল হক সেলিম, ডা: আহমদুদুর রহমান আব্দাল, এডভোকেট কামাল উদ্দিন সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম মতিন, পৌর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক এস এম আওয়াল, যুব জমিয়তের যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক, সদর উপজেলা জমিয়ত নেতা শিব্বির আহমদ, সিডিসি’র সাধারণ সম্পাদক আরব আলী, সিএনজি শ্রমিক সমিতির সভাপতি হাজী আব্দুল বাশার, আইনজীবি সহকারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রেজ্জাক, দোকান কর্মচারী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, ইলেক্ট্রিক নির্মাণ সমিতির সভাপতি নূরুল ইসলাম রিপন, নির্মাণ শ্রমিক সমিতির সভাপতি সারাজ মিয়া, ট্রাক শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহিদ, টমটম মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান, জেলা রেফারী সমিতির মীর কাজল, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের আহবায়ক এডভোকেট মিঠু চন্দ্র গোপ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক নুরুল হক টিপু, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) এর জেলা আহবায়ক আরিফ তালুকদার, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস এম বজলুর রহমান, জেলা যুবদলের আহবায়ক জালাল আহমেদ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সৈয়দ মুশফিক আহমেদ, সদস্য সচিব এমদাদুল হক এমরান, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল ইসলাম বাবুল, যুগ্ম আহবায়ক রুবেল আহমেদ চৌধুরী, মোস্তাক আহমেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগন, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, জেলা জাসাসের আহবায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা লাভলী সুলতানা, সহ-সভাপতি নুরজাহান বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুরাইয়া খান রাখি প্রমুখ।