জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭ টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে গতকাল সোমবার প্রচারণার শেষ দিনে প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর ছিল সারা জেলা। জেলার ৪টি আসনের প্রার্র্থীদের বিরামহীন ব্যস্ততা দেখা গেছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ-৩ (হবিগঞ্জ, সদর- লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে প্রার্থীরা মিছিল, সমাবেশ ও গণ সংযোগের ব্যাপক কর্মসূচি পালন করেছেন। বিকেলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলহাজ¦ জিকে গউছ হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন। এর আগে দলীয় নেতারা খন্ড খন্ড মিছিল বের করেন। একই সাথে জায়ায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদ বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা করেছেন। লাখাইয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে দিয়েছেন শোডাউন। অন্যান্য প্রার্থীদেরও মিছিল ও গণ সংযোগ করতে দেখা গেছে। এছাড়া হবিগঞ্জ-১ (মাধবপুর-চুনারুঘাটে) আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মোঃ ফয়সল বিরামহীন প্রচারণা করেছেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ইসলামী ফ্রন্টের গিয়াস উদ্দিন আত্ব-তাহেরীও নির্বাচনী সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা করেন জামায়াত সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ড. আহমদ আব্দুল কাদের। হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ান বিএনপির প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া ও বিদ্রোহী প্রার্র্থী শেখ সুজাত মিয়া। একই সাথে শেষ দিনের ব্যাপক গণসংযোগ করেন জামায়াত সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের দিনভর ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির প্রার্থী ডাঃ সাখাওয়াত হাসান জীবন ও জামায়াত সমর্থিত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ। প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর ছিল জেলার নির্বাচনী এলাকায়। শেষ দিনের প্রচারণায় ভোটারদের মন জয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেন। জীবনের শেষ নির্বাচন দাবী করে অনেকেই ভোটারদের আকুতি মিনতি করেন। এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল মধ্যরাত থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপ-সচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। যার ফলে জেলার প্রত্যেকটি এলাকায় আজ থেকে ৭২ ঘন্টার জন্য মোটর সাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, ভোটগ্রহণের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের চলাচলের জন্য বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহারে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রার্থী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট প্রত্যেকে একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন জিপ, কার, মাইক্রোবাস, সিএনজি বা অটোরিকশা ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি গাড়িতে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) সর্বোচ্চ পাঁচজন অবস্থান করতে পারবেন। প্রার্থীর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত গানম্যান থাকলে তাকেও এ পাঁচজনের মধ্যে গণ্য করা হবে।
আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত অবস্থান করতে পারবে না। গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে জানানো হয়, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ও নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যেসব এলাকায় মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল সম্ভব নয়, সেখানে প্রার্থী ও তার নির্বাচনি এজেন্ট প্রত্যেকে সর্বোচ্চ দুইটি করে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি মোটরসাইকেলে চালকসহ (বৈধ লাইসেন্সধারী) অনধিক দুইজন অবস্থান করতে পারবেন। তবে জরুরি ও বিশেষ প্রয়োজনীয় সেবার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের যানবাহন, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহন, সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে বিশেষভাবে তৎপর থাকবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনী ইতিমধ্যে অভিযান জোরদার করেছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুয়ায়ী, ভোটের দিন ধুমপানে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে জেলা প্রশাসন। ভোটকেন্দ্রে ধুমপান করা থেকে বিরত থাকতে গনবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া জেলার ৪টি আসনে ৬৪৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র গুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরী করেছে প্রশাসন। জেলার ৬৪৭টি কেন্দ্রে ও ৪টি পোস্টাল বুথে দায়িত্ব পালন করবে ২০৬৭ জন পুুলিশ। পুলিশের গায়ে বডি অর্ণ ক্যামেরা থাকবে। এছাড়া ৫৫টি মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯টি, ২টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ ঝুকিপূর্র্ণ কেন্দ্রগুলোত গুরুত্ব দিচ্ছে বিজিবি। নির্বাচনে ঘিরে জেলায় ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের দিন পুলিশ ও আনসার বাহিনী নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপস ব্যবহার করবেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।