কিশোর গ্যাংয়ের ৩০ সদস্যকে আসামী করে পুলিশের মামলা
তারিখ: ৯-মার্চ-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

হবিগঞ্জ শহরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া, সংঘর্ষ, চুরি ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের গ্রেফতার করতে তৎপর ভূমিকা পালন করছে হবিগঞ্জ সদর থানা পুুলিশ। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এখন পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই হাসান আলী বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অন্তত ৩০ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হযেছে। 
মামলার আসামিরা হল উমেদনগর গ্রামের আবু বকর সাজিম, অনন্তপুর গ্রামের রাহিম মিয়া, পুরান মুন্সেফীর তারিকুল ইসলাম হৃদয়, উমেদনগরের নুর আলম, ইনাতাবাদ গ্রামের সাইদুর রহমান হৃদয়, বহুলা মোকামবাড়ির সাইমুন, জনি, রনি, হাসান রাজা, মাবিন, উজ্জল, মাহিম, উমেদনগরের খোকা, তানভীর, রাজনগরের জিসান, রাহাত, তুহিন, জয়, মনু, মুহিম, মোশাহিদ, রাফিদ, রহিম, গোসাইপুরের আহাম্মদ আলী, শ্যামলীর শিশির, শংকরের মুখ এলাকার মহসিন, নিউ মুসলিম কোয়ার্টারের সজিব, মোহনপুরের ইমাদসহ আরও কয়েকজন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কিশোর গ্যাংয়ের এসব সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শহরের মোহনপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযানে কাদির মিয়ার ছেলে নুর আলম, দুলাল মিয়ার ছেলে তারিকুল ইসলাম হৃদয় এবং সেলিম মিয়ার ছেলে রাহিমকে আটক করে।
এদিকে শহরে কিশোর গ্যাংয়ের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এসব কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিত টহল জোরদার করেছে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রথম পাতা