স্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদাবাজির অভিযোগ করায় মিথ্যা গাছ চুরি মামলা দিয়ে সানু মিয়া নামে এক প্রতিবন্ধিকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জ বন বিভাগের স্পেশাল টিমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডেপুটি রেঞ্জার) আশিক আহমেদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এদিকে, দুর্র্নীতিবাজ বনকর্মকর্তা আশিক আহমেদের দ্রুত অপসারণ ও নিরাপরাধ প্রতিবন্ধি সানু মিয়ার মুক্তির দাবীতে প্রতিবাদ সভা করেেেছন স্থানীয়রা।
গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুনারুঘাট পৌর শহরের দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ডে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডেপুটি রেঞ্জার আশিক আহমেদকে প্রত্যাহার দাবি জানান। অন্যতায় বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসুচি দেবে বলে জানিয়েছে চুনারুঘাট কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ভুক্তভোগীরা।
কাঠ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির চুনারুঘাট উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মীর সাহেব আলীর পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ লিয়াকত হাসান।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘রেঞ্জার আশিক আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধি সানু চাঁদাবাজির অভিযোগ দেন। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে মিথ্যা গাছ চুরির অভিযোগ এনে তাকে আসামী করে মামলা দেন। ওই মামলায় নিরাপরাধ সানু মিয়া কারাগার বরণ করছেন। আমরা সানু মিয়ার মুক্তির দাবী জানান। অন্যতায় বৃহত্তম আন্দোলনের ডাক দেওয়ার ঘোষণা দেন।
কাঠ ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, ‘ডেপুটি রেঞ্জার আশিক পুলিশ সাথে নিয়ে আমার এলাকা থেকে ক্রয় করা গাছভর্তি ট্রাক্টর আটক করে। পরে ট্রাক্টর ও ড্রাইভারকে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে সানু মিয়াকে মামলায় আসামি করে। গাছ আটকের সময় কোন ধরনের হট্টগোল বা মারামারি হয়নি। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার চাই।
চুনারুঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সৈয়দ লিয়াকত হাসান বলেন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা আমাদের মাননীয় হুইপ আলহাজ্ব জিকে গউছ এবং আমাদের এমপি আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল সাহেবের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবো। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র নাজিমউদ্দিন সামসু, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শফিক মিয়া, বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার করিম সরকার, যুবদলের সদস্য সচিব সাবেক কাউন্সিলর জালাল আহমেদ, চুনারুঘাট ছাত্রদলের সদস্য সচিব মারুফ আহমেদ, কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ মিয়া, নাসির মিয়া, সোহাগ মিয়া, দুলাল মিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজাদ তালুকদার, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম তোতাসহ শত শত সাধারন কাঠ ব্যবসায়ী।