স্টাফ রিপোর্টার ॥
হবিগঞ্জ শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে ছিচকে চোরের দৌরাত্ম্য। গভীর রাত থেকে ভোরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন মহল্লায় সক্রিয় হয়ে উঠছে চোরচক্র। পানির মোটর, রড, টিউবওয়েল, লোহার গেট, বৈদ্যুতিক তার—কিছুই আর তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এতে করে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শহরবাসী। শহরের শায়েস্তানগর, মোহনপুর, কোর্ট স্টেশন এলাকা, রাজনগর, নিউ মুসলিম কোয়ার্টার, দক্ষিণ শ্যামলীসহ পৌরসভার প্রায় সব ওয়ার্ডেই প্রতিদিন কোনো না কোনো চুরির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে ভাড়া বাসা ও নির্জন গলিগুলোতে চোরের উপদ্রব বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, গভীর রাতে বা ভোরের দিকে চোরেরা দলবদ্ধভাবে এসে বাড়ির সামনে বা পেছনে রাখা পানির মোটর ও টিউবওয়েল খুলে নিয়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার নির্মাণাধীন ভবন থেকে রড ও লোহার মালামাল চুরি হচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই দেখছেন, তাদের বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র আর নেই। নিউ মুসলিম কোয়ার্টারের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, “মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে আমাদের এলাকায় চারটি পানির মোটর চুরি হয়েছে। অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না। রাতে পুলিশের টহল চোখে পড়ে না বললেই চলে।” স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের নিয়মিত টহল না থাকায় চোরেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে রাত গভীর হলেই শহরের অলিগলি কার্যত চোরদের দখলে চলে যায়। এ সুযোগে তারা নির্বিঘ্নে চুরি চালিয়ে যাচ্ছে।
আরেকদিকে, চোরাই মাল কেনাবেচার জন্য শহরের বিভিন্ন ভাঙারি দোকান নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, চুরি হওয়া লোহালক্কড় ও যন্ত্রপাতি এসব দোকানেই বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এসব ভাঙারি ব্যবসার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। রাজনগর এলাকার এক গৃহবধূ বলেন, “ভয় নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। রাতে সামান্য শব্দ পেলেই আতঙ্কে ঘুম ভেঙে যায়। জানি না কখন কী হারাতে হয়।” সচেতন মহলের মতে, দ্রুত পুলিশি টহল জোরদার করা, ভাঙারি দোকানগুলো নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা এবং চোরচক্র শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহরবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে হবিগঞ্জ শহরে স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরে আসে।