শীতের সকালে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানো হবিগঞ্জের গ্রামগুলোর এক চিরচেনা প্রাকৃতিক দৃশ্য। পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে গরম কাপড়ে মোড়ানো মানুষজন জবুথবু হয়ে পড়েছেন। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধারে কিংবা খোলা জায়গায় সকাল-সন্ধ্যা আগুন পোহানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। প্রচন্ড শীত থেকে বাঁচতে আগুন পোহানো এখন সবার কাছেই পরিচিত চিত্র, যা মূলত গ্রামাঞ্চলেই বেশি দেখা যায়। সকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লাদিয়া গ্রামে দেখা যায়, খড়কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে ৭-৮ জন মানুষ একসঙ্গে তা পোহাচ্ছেন। কেউ দাঁড়িয়ে, কেউ বসে যে যেভাবে পারছেন আগুনের তাপ নিচ্ছেন। শৈত্যপ্রবাহে শিশু থেকে বৃদ্ধ, সবাই একইভাবে বিপর্যস্ত। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় স্বাভাবিক জীবনযাপন যেন থমকে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে জনসাধারণের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা। শীতবস্ত্র ও খাদ্যের সংকটে জেলার চা-শ্রমিকসহ গ্রামের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, জেলা জুড়ে আরও এক সপ্তাহ শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। শীতের তীব্রতা ও ঘন কুয়াশার কারণে সকালে কৃষকেরা জমিতে পরিচর্যা করতে পারছেন না। কৃষকেরা জানান, আগুন পোহানোর আয়োজনটি সাধারণত শিশুরাই করে থাকে, যদিও সবাই এতে অংশ নেয়। আগুন পোহাতে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি মিললেও গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কমছে না। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর শীতের প্রকোপ বেশি হওয়ায় প্রতিদিনই গ্রামবাসী ও চা-শ্রমিকদের আগুন পোহাতে দেখা যাচ্ছে।
কাজিরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহেদ মিয়া বলেন, “টানা সাত দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। প্রচন্ড শীতে গ্রামের মানুষ বিপর্যস্ত।” তীব্র শীতের কারণে জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্টসহ নানা ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে শীতের এই তীব্রতায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে।