পুকড়া ইউপির মুরারআব্দা বন্দে আ’লীগ নেতার নেতৃত্বে চলছে সরকারি মাটি কাটার মহোৎসব
তারিখ: ১৩-জানুয়ারী-২০১৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 বানিয়াচং উপজেলার ৯নং পুকড়া ইউনিয়নের মুরারআব্দা গ্রামের পার্শ্ববর্তী বন্দে মুরারআব্দা মৌজা থেকে অবৈধভাবে সরকারি জমি থেকে অবাদে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি ভূমিখেকো চক্র। আর এই চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে কৃষ্ণনগর (নোয়াগাও) গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম। শাহ আলম ওই গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার পুত্র। আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলমের স্ত্রী পারভিন আক্তার পুকড়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দাপটের সঙ্গে এলাকায় অবৈধকর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল। কিন্তু দেশের পটপরিবর্তনের পরও তার দাপট থেমে নেই। এখনও সে অবৈধভাবে সরকারি খাস জমি থেকে মাটি উত্তোলন করে আসছে। পরে যা বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। স্থানীয়রা জানান- মুরারআব্দা মৌজা থেকে সরকারি খাস জমিতে গত ১৫ থেকে ২০দিন ধরে এক্সেভেটরের মাধ্যমে দিনরাত সমানতালে মাটি উত্তোলন করে আসছে শাহ আলম চক্র। আর এতে করে ওই এলাকার ফসলি জমি জমা ও গরুর চরণভূমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যে কারণে শাহ আলম চক্রের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় এলাকাবাসি। একই সঙ্গে শাহ আলমকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবী তাদের। এছাড়াও শাহ আলম একজন ডেভিল হয়েও কিভাবে দাপটের সঙ্গে সরকারি জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে বিক্রি করছে তা নিয়েও জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। 
২০২৫ সালেও একই মৌজা থেকে অবৈধভাবে সরকারি জায়গার মাটি কেটে নিয়ে যায় সে। যে কারণে সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ২০২৫ সালের ৪ মার্চের অভিযানে নেতৃত্বেদেন তৎকালীন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহাকারি কমিশনার ভূমি মোঃ ইসমাইল হোসেন। অভিযানের সময় মাটি কাটার প্রমাণাদি পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় নিয়মিত মামলার আদেশ দেন তিনি। পরবর্তীতে মামলাও দায়ের করা হয়। শাহ আলমের বিরুদ্ধে বাহুবল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা রয়েছে। এছাড়াও মারামারি, হত্যা, নারী নির্যাতন, রোড ডাকাতিসহ প্রায় অর্ধডজন মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রথম পাতা