স্টাফ রিপোর্টার ॥
নবীগঞ্জ উপজেলায় কাতার প্রবাসীর বহুতল ভবনসহ জায়গা দখল করতে গিয়ে প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনের উপর হামলার ঘটনায় নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমিনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত রবিবার (১১ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় নবীগঞ্জ থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। এর আগে গত ৮ জানুয়ারী (বৃহস্পতিবার) নবীগঞ্জ উপজেলার বুরুঙ্গা (পাঠলি) গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী এমদাদুর রহমানের বড় ভাই ছাদিকুর রহমান নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নবীগঞ্জ থানার ওসি মামলা রুজু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করেন- বিবাদী শাহ্ শানজানা আক্তার সেপী বাদীর ভাই এমদাদুর রহমানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী। এমদাদুর রহমান বর্তমানে কাতার প্রবাসী। প্রবাসে থাকার সুযোগে শাহ্ শানজানা আক্তার সেপী তাঁর স্বামীর টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করেন এবং নবীগঞ্জ পৌর এলাকার গন্ধা গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের পুত্র জুবায়ের আহম্মেদের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ পেলে এমদাদুর রহমান তাঁকে তালাক প্রদান করেন। তালাকের পর থেকেই ওই নারী ও তাঁর সহযোগীরা বাদী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন করেন বাদী। এর মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলা আদালত সরাসরি খারিজ করেন।
গত ৬ জানুয়ারী হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ৯৮৭ দায়ের করেন পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের তাজ উদ্দিন তালুকদার। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন- নবীগঞ্জ উপজেলার হালিতলা মৌজার জেএল নং ৮৭ হালে ৯০, খতিয়ান নং ১৩১৭, আর এস দাগ নং- ৫৪১, মোয়াজী ৫ শতক, বোরো রকম ভূমি বর্তমানে বাড়ি রকম ভূমি তাজ উদ্দিন তালুকদার নিকট হতে ক্রয় করেন বুরুঙ্গা গ্রামের কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমান। উক্ত জায়গায় মালিক কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমানের নির্মাণাধীন তিনতলা বিল্ডিং রয়েছে। এমদাদুর রহমানের নির্মাণাধীন বিল্ডিং এর কাজের দায়িত্বে রয়েছেন তালতো ভাই তাজ উদ্দিন তালুকদার। কাতার প্রবাসী এমদাদুর রহমান জায়গা ক্রয়ের পর থেকে শানজানা আক্তার সেপীর পক্ষ নিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নির্মাণাধীন তিনতলা বিল্ডিংটি দখলের পায়তারা করে যাচ্ছেন নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমীন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন, পরকীয়া প্রেমিক জুবায়ের আহম্মেদ ও তার লোকজন উক্ত জায়গা দখল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে পড়ে লাগেন। এমনকি জোরপূর্বক জায়গা দখল করতে গিয়ে একাধিকবার হামলার শিকার হন তাজ উদ্দিন তালুকদার। এ ঘটনার পর গত ৬ জানুয়ারী জায়গা ও নির্মাণাধীন বিল্ডিং রক্ষার স্বার্থে আদালতে রিসিভার নিয়োগের আবেদন করেন তাজ উদ্দিন তালুকদার। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে উক্ত জায়গায় শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা বিদ্যমান থাকায় ভূমিতে রিসিভার নিয়োগ করেন। এরই আলোকে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী) আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে নবীগঞ্জ থানার এসআই মতিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই জায়গায় যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক নুরুল আমীন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন, যুবলীগ নেতা জুবায়ের আহম্মেদ, শাহ সোহেল মিয়া ও তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওসমানী রোডস্থ মোতালিব ভিলার সামনে থাকা তাজ উদ্দিন তালুকদার ও তার লোকজনের উপর হামলা চালায়। হামলায় ৫ জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের মধ্যে রক্তাক্ত মঈনউদ্দিন ওরফে আশরাফুল ইসলামকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। অন্যান্য আহতরা হলেন- সইদুর রহমান, তাজ উদ্দিন, সাদিকুর রহমান, কোহিনুর মিয়া প্রমুখ।