স্টাফ রিপোর্টার ॥
টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাওড়াঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে এবং নতুন নতুন এলাকা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ খোয়াই নদীর পানি বাড়লেও বিপদসীমার নিচে রয়েছে তবে সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে সুতাং নদীর পানি সুতাং-রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করায় আশপাশের বিস্তীর্ণ হাওড় এলাকা পানির নিচে চলে গেছে। বন্যায় নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার হাওড়গুলোতে বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে।
হাওড়াঞ্চলের একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাস ধরে কঠোর পরিশ্রমে উৎপাদিত এই ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে আকস্মিক বন্যায় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে কৃষকদের কোমরসমান পানিতে নেমে শেষ চেষ্টা হিসেবে ধান কাটতে দেখা গেলেও টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সামান্য যা ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে, তাও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এ ধরনের আকস্মিক বন্যা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। কেউ কেউ ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অনেক পরিবারে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। কোথাও কোথাও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে হবিগঞ্জ জেলার খোয়াই, সুতাংসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদে হাওড় রক্ষায় টেকসই বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।