স্টাফ রিপোর্টার ॥
নবীগঞ্জে ইতালি ভিসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আক্কাস আলী নামে এক ইতালি প্রবাসীকে জিম্মি করে বাংলাদেশে ভাইয়ের কাছ থেকে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী। গতকাল রবিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী আক্কাস মিয়ার ভাই রফিক মিয়া এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নবীগঞ্জ উপজেলার গুমগুমিয়া গ্রামের রফিক মিয়া জানান, তার ভাই ইতালি প্রবাসী আক্কাস মিয়া এবং একই ইউনিয়নের শাখোয়া গ্রামের ইতালি প্রবাসী মোহাম্মদ আলী যৌথভাবে এক ইতালিয়ান মালিকের মাধ্যমে মোট ১৩টি ভিসা সংগ্রহের জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা লেনদেন করেন। এর মধ্যে আক্কাস মিয়া ৪টি এবং মোহাম্মদ আলী ৯টি ভিসা নেন। আক্কাস মিয়া তার নিজ পরিবারের সদস্য-ভাই, ভাতিজা ও ভাগনাদের জন্য ভিসা সংগ্রহ করেন। অপরদিকে মোহাম্মদ আলী ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন অন্য লোকজনের জন্য ৯টি ভিসা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে দূতাবাস থেকে সবকটি ভিসা রিজেক্ট হলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ করা হয়, ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর থেকেই মোহাম্মদ আলী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্কাস মিয়ার ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ইতালিয়ান মালিককে মোহাম্মদ আলীর বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। পরে আক্কাস মিয়া ও ইতালিয়ান মালিক মোহাম্মদ আলীর বাসায় যান। এক পর্যায়ে ইতালিয়ান মালিক সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর মোহাম্মদ আলী পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি ষড়যন্ত্র লিপ্ত হন। তিনি আমার ভাই আক্কাস মিয়াকে জোরপূর্বক তার বাসায় আটকে রাখেন এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, দেশে অবস্থানরত আমাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলীর ভাতিজা আমাকে ফোন করে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে ব্যাংক চেকবই ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মূলত ভাইয়ের জীবন রক্ষার স্বার্থে আমি তখন বাধ্য হয়ে এসব নথিতে স্বাক্ষর দিতে সম্মত হই এবং এরপরই আমার ভাইকে তাদের জিম্মিদশা থেকে ছাড়িয়ে আনা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বর্তমানে ওই জোরপূর্বক নেওয়া চেকবই ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে আক্কাস মিয়ার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। এমনকি ইতালিতে ‘মাফিয়া’ লেলিয়ে দিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা খবর পাচ্ছেন। তিনি বলেন- মোহাম্মদ আলী ৯টি ভিসা পাওয়ার পর অতিরিক্ত মুনাফার লোভে প্রায় ১৯০টি পাসপোর্ট ইতালিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ১৩টি ভিসা রিজেক্ট হওয়ার পর ইতালিয়ান মালিক তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ওই মালিক আমার ভাইয়ের কাছ থেকেই সেই ১৯০টি পাসপোর্টের বিপরীতে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। রফিক মিয়া দৃঢ়তার সাথে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মিথ্যা অভিযোগ ও নানামুখী অপকৌশলের মাধ্যমে আমার ভাই আক্কাস মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, আমরা প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।