সম্পাদকের কলাম-- নিরবে চলে গেল ‘বিশ^ মুুক্ত সাংবাদিকতা’ দিবস
তারিখ: ৪-মে-২০২৬


গতকাল ছিল ৩রা মে ‘বিশ^ মুুক্ত সাংবাদিকতা’ দিবস। দিবসটি জাতীয় পর্যায়সহ সারাদেশে পালন করা হলেও হবিগঞ্জে কোথাও পালনের কোন অনুুষ্ঠান চোখে পড়েনি। একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস চলে গেল নিরবে। আমরা যখন বাইরের কোন সেলিব্রেটির সাথে আলাপ করি,  তখন গর্বের সাথে বলি আমাদের হবিগঞ্জ থেকে ১৫/১৬টি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ আমাদের জগতের অর্র্থ্যাৎ সাংবাদিকতার দুনিয়ায় ‘মুক্ত সাংবাদিকতা’ প্রতিটি সাংবাদিক, প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াসহ সকল ধরনের মিডিয়ার অন্তরের কথা। এছাড়াও  হবিগঞ্জের অনেক স্বনামধন্য সামাজিক  প্রতিষ্ঠানসহ লেখক, গবেষক, কবি সাহিত্যিক, মুুক্ত  চিন্তার বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গের সরব উপস্থিতি রয়েছে বলে আমি জানি। কিন্তু সেদিক থেকেও এ গুরুত্বপূূর্ণ দিবসটি পালনের কোন উদ্যোগের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয়নি বলে আমি নিজেই নিজের কাছে লজ্জ্বিত। মুক্ত সাংবাদিক ধরণ এবং ধারণ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সর্ব প্রথমেই দেখতে হবে সারা বিশে^ সাংবাদিকদের হাত ও কলম কতটা মুক্ত। আমার মনে হয়না সাংবাদিকতা পুুরোপুরি  ভাবে মুক্ত। এটি কোন না কোন গোষ্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। আর নিয়ন্ত্রিত হবেই বা না কেন?। যদি পৃৃথিবীতে সাংবাদিকতার শুরুটা পর্যালোচনা করা যায়, তাহলে দেখা যাবে প্রাচীন কালের সাংবাদিকতার ইতিহাসের দিকে যদি চোখ ফেরানো যায়, তা হলে দেখা যাবে তখনকার শাসক গোষ্টি কেবল তাদের বা রাজাদের বিভিন্ন প্রকারের প্রচার অর্থ্যাৎ খাজনা আদায়, কোন প্রজার বড় শাস্তি হলে অথবা রাজ  বাড়িতে কোন  আচার অনুষ্ঠান হলে ঢাক পিঠিয়ে প্রজাদের মহল্লায় মহল্লায় ঘুুরে তা প্রচার করতো, এরা ছিল সে সময়ের সংবাদ দাতা। অনেকের মতে সেখানে থেকে সাংবাদিকতার সূচনা। পরবর্তী পর্র্যায়ে অনেকের মতে ১৭০০ সালের শেষের দিকে এই প্রচারের ধন একটু পরিবর্তন করে এক শ্রেনীর কিছু লোককে নিয়োগ দেয়া হত সরকারের কার্র্যক্রম বা জরুরী বার্র্তা  সকলকে অবহিত করার জন্য। এদেরকে ঘোড়া এবং হাতে একটি তামার তৈরী চুঙ্গা দেয়া হত এবং সরকার কর্তৃক এদের  পদের নাম ছিল ‘টাউন ক্রায়ার’। এদের নির্দিষ্ট বেতন ছিল। উপরের উল্লেখিত বিষয়ের সতত্যা প্রমাণ মিলে আমাদের হবিগঞ্জ শহরে। যাদের বয়স ৭০ এর উর্ধ্বে তারা হয়তো দেখেছেন রাজনগর কবরস্থান সংলগ্ন পশ্চিমের বাসিন্দা নিম্বর মুন্সিকে।  যার নাম এখনো একজন ধার্মিক লোক হিসেবে সমাজে সমাদৃত। এ লোকটি রমজান আসলেই টিনের চুঙ্গা হাতে নিয়ে রাত আড়াই টা থেকে শুরু করতেন রোজাদারকে সেহরী খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে  জাগানোর  কাজ। তার কন্ঠে শুনা যেত  ‘পথার (সেহরী) সময় হয়ে গেছে, মুসলমান ভাইরা ঘুম থেকে উঠুন। এটি আমাকে মনে করিয়ে দেয় সেই ১৭০০ সালের প্রচারের কথা। যাক, আমরা এখন আধুনিক যুগ পেরিয়ে ডিজিটালাইজেশনের যুগে পা রেখেছি। আমাদের সুু-যোগ্য সন্তানরা সাংবাদিকতায় উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে এ পেশায় বর্হিবিশে^ বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। প্রশ্ন হল, এ যুুগেও কেন মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য আন্তর্জাতিক দিবস পালন করতে হল। আমার এ সীমিত অভিজ্ঞতার থেকে যা দেখেছি, এতে মনে হয় মুক্ত সাংবাদিকতায় সরকার, সাংবাদিক এবং প্রকাশক আমাদের সকলের উপরই কম বেশি দায় বর্তায়। আমি বা আমরা সকলেই দেখে আসছি, যে দল সরকার গঠন করে  তখন বিভিন্ন পন্থায় সাংবাদিকদের হাতকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়, আবার এরা যখন বিরোধি দলে থাকে তখন এদের মুুখেই সাংবাদিকদেরকে হাত খুলে লেখার নসিহত শোনা যায়। এটি মুক্ত সাংবাদিকতার প্রধান বাঁধা বলে আমি মনে করি। আবার এক শ্রেনীর সাংবাদিক ও প্রকাশক সরকারের লেজুরবিত্তির প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে বিগত ১৬/১৭ বছর যাবত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে এক শ্রেণীর সাংবাদিকদের চাটুকারিতাও ছিল চোখে পড়ার মত। যার কারনে এদের অনেকই আজ জেলে এবং অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই বিতর্কিত সাংবাদিকদের কারনে জনসম্মুখে সাংবাদিকরা আজ বিতর্কিত। বলতে গেলে সাংবাদিক সমাজ প্রকাশক জনসম্মুখে আজ প্রশ্নবিদ্ধ। তবে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর এ চিত্রটি পাল্টেছে বলে আমার মনে হয়। আমরা আশাবাদি, একটি সুষ্টু ও অংশগ্রহন মূলক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান সরকারের প্রায় দ্ইু মাসের রাষ্ট্র পরিচালনা বিশেষ করে সফল প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়া ও আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সু-যোগ্য  সন্তান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা ও বিভিন্ন  যুগপযোগি কর্মসূচি দেখে সামনে আমি আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। বর্তমান জনবান্ধব সরকারকে  ধন্যবাদ জানাই, এজন্য যে তিনি দলকানা নন। অন্যায় হলে দলের নেতাদেরকেও ছাড় দেয়ার পাত্র নন। ইতিমধ্যে তার এই পদক্ষেপের প্রমাণ আমাদের সামনে বিদ্যমান। সুতরাং, অকপটে বলা যায়, এ সরকারের আমলে সাংবাদিক তথা মিডিয়ার হাত খোলা থাকবে, যদি আমরা সকলে মিলে সহযোগিতা করি। 
বীর মুুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক
সম্পাদক ও প্রকাশক-দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার