চুনারুঘাটে ধর্ষন মামলা তুলে নিতে জামায়াত নেতার চাপ ও হুমকির কারনে ধর্ষনে শিকার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী। (৩০ এপ্রিল) হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেন চুনারুঘাট উপজেলার বাসুল্লা গ্রামের ফজল মিয়া।এর আগে গত ২০ এপ্রিল রাতে চুনারুঘাট পুর্বাঞ্চলের কুখ্যাত মাসুক ও তার সহযোগী ফজল মিয়ার স্ত্রী রহিমা কে তুলে নিয়ে ধর্ষন করে। অভিযোগে ফজল মিয়া বলেন,গত ২০ এপ্রিল সোমবার রাতে আমার বসতঘর থেকে আমার স্ত্রী রহিমা খাতুন কে জোরপূর্বক ভোলে নিয়ে ধর্ষন করে একই গ্রামের মুহু মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া ও তার সহযোগী। আমি তখন মৌলভীবাজার এলাকায় দিনমজুর এর কাজে ছিলাম। পরেরদিন আমি বাড়াতে এসে আমার স্ত্রী কে নিয়ে চুনারুঘাট থানায় যাই। পুলিশ আমার স্ত্রী রহিমাকে ভিকটিম হিসাবে হাসপাতালে চিকিৎসা করে এবং মামলা দায়ের করি। মামলা করার পর চুনারুঘাট থানার (ওসি তদন্ত) সাহেব সহ পুলিশ ঘটনার তদন্তে আসেন। এ সময় পুলিশের সাথে আমার বড় মেয়ে আসামীর বাড়ীতে যায় এবং আসামীকে সামনে পেয়েও তাকে আটক করেনি পুলিশ। ঘটনার পরপরই আমাদের বাসুল্লা গ্রামের জামায়াত নেতা খলিলুর রহমান, কাজী ফুল মিয়া ও আ'লীগের নেতা সিরাজ মিয়া থানায় এসে ওসি সাবের সাথে শলা পরামর্শ করে আমাকে বাহিরে নিয়ে যান এবং মামলা টি উত্তোলন করার জন্য চাপ দেন। মামলা আপোস করার জন্য ৫০ হাজার টাকা নগদ দেন কিন্তু আমি টাকা নেই নি। আমি বলেছি, আমি গরীব দিন মুজুর হতে পারি কিন্তু স্ত্রী'র ইজ্জত বিক্রি করে খাব না। এর পর তারা অনেক ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তারা বলেন তুমি টাকা না নিলেও তোমার টাকা পুলিশে খাবে। মামলা করে কিছুই করতে পারবে না। তারপর আমার বুঝতে আর বাকী রহিল না যে, প্রভাবশালী নেতাদের টাকার গরমে পুলিশ আসামী ধরছেন না। পরের দিন আসামী ধর্ষক মাসুক নিজেই দেশীয় অন্ত্র সহ আমার বাড়ীতে এসে আমার মেয়ে কে ধর্ষন করার হুমকি দেয়। বলে ১টি ধর্ষন করলে যে বিচার ১০ টি করলে একই বিচার। আমি অসহায় নিরুপায় হয়ে আপনার স্মরনাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোন পথ ছিল না। ধর্ষক মাসুক এর আত্মীয় স্বজন প্রভাবশালী। তাঁদের প্রতিনিয়ত হুমকি ও পুলিশের উদাসীনতায় বিপর্যস্ত আমার পরিবার। আসামীকে গ্রেফতার না করায় আমি ও আমার পরিবার সম্পূর্ন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।আসামী ধর্ষক মাসুক কে গ্রেফতার ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে মহোদয়ের কাছে সবিনয় অনুরোধ করেন ধর্ষিতার স্বামী দিনমজুর ফজল মিয়া। এদিকে ঘটনার ২ সপ্তাহ পার হলেও আসামী ধরতে পারছেনা পুলিশ।
চুনারুঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন,আসামী ধরার চেষ্টা চলছে। এলাকাটি গহীন জঙ্গল ও পাহাড়ি হওয়ায় অপরাধীরা সহজে পালিয়ে যায়।