নবীগঞ্জে সাংবাদিক শাহ সুলতানকে হত্যা চেষ্টা ॥ থানায় অভিযোগ
তারিখ: ৪-মে-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি বাজারে বহুল আলোচিত সাংবাদিক শাহ্ সুলতান আহমদকে নির্যাতনকারী আউশকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ও বিতর্কিত  মুহিবুর রহমান হারুন আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে? অভিযোগে উল্লেখঃ নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক  সাংবাদিক শাহ্ সুলতান আহমদ কর্তৃক পেশাগত দায়িত্ব পালন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ওই সংবাদকর্মীর ওপর বর্বরোচিত হামলা সহ প্রাণনাশের হুমকি ও তাঁর পরিবারকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদ নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের বর্তমান সহ-সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ ও প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার নবীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী মোছাঃ রাজমিন বেগম নামেরৃ গৃহবধূ । অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২০ সালে  আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী  নেতা  মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ত্রাণ সামগ্রী আত্মসাতের অনিয়মের বিষয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান আহমদ সংবাদ প্রকাশ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে উক্ত সংবাদ  প্রচার করেন। সেই সময় সাংবাদিককে হত্যার উদ্দেশ্যে দিনদুপুরে ফিল্মী স্টাইলে আউশকান্দি বাজারে হারুন চেয়ারম্যান তার দলবল নিয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেধড়ক 
মারপিট করে গুরুতর জখম করা হয়েছিল? উক্ত ঘটনাটি সারাদেশব্যাপী ব্যাপক তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় চিকিৎসার খরচ ও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে  মীমাংসা করা হয়। তবে সামাজিক সালিসি প্রক্রিয়ায় বিচারকে বৃদাঙ্গুলি দেখিয়ে তা অমান্য করেন হারুন? এমনকি বিবাদীরা সামাজিক বিচারে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে দীর্ঘকাল ধরে টালবাহানা করতে থাকে,এবং উল্টো ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দিয়ে সুলতান সহ আরো অনেক গণমাধ্যম কর্মীদের হয়রানি করেন?  এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০শে এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ বিকেলে আউশকান্দি বাজারের মারফত উল্লা ভবনের নিচে সাংবাদিক শাহ সুলতান বিবাদীদের কাছে পূর্বের সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বকেয়া পাওনা ও ক্ষতিপূরণের  কথা বললে ১নং বিবাদী মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আবারো হামলার নির্দেশ দেন। এ সময় বিবাদীরা তাকে "শালা’র ব্যাটাকে শেষ করিয়া ফেল" বলে ধাওয়া করে এবং হত্যার হুমকি প্রদান করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও বর্তমানে বিবাদীদের ক্রমাগত হুমকির মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মুহিবুর রহমান হারুন এবং অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন হারুনের ভাই ইউপি আওয়ামী লীগের সহসভাপতি 
আতাউর রহমান, তার সহযোগী লাটিয়াল বাহিনীর সদস্য মোঃ ইমাদ উদ্দিন,মোঃ এমদাদুর রহমান, মোঃ রাজনু মিয়া, জমির আলী মেম্বার, কাপ্তান মিয়া ও মোঃ নূরুজ্জামান। বর্তমানে সাংবাদিকের স্ত্রী ও সন্তানেরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং বিবাদীদের ভয়ে সাংবাদিক শাহ সুলতান দীর্ঘ ১০ দিন ধরে বাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় নবীগঞ্জের সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, একজন কলম যোদ্ধার ওপর এমন হামলা সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার সামিল। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন যাহাতে এলাকায় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। নবীগঞ্জ থানা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।