ইতালি নেয়ার কথা বলে নবীগঞ্জের যুবককে লিবিয়া আটকে নির্যাতন ২৭ লাখ টাকায়ও মিলছে না মুক্তিপণ
তারিখ: ৪-এপ্রিল-২০২৬
নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥

 নবীগঞ্জের যুবক রায়হান চৌধুরী (৩০)কে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপন আদায়ের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং আবারও ২৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার জন্য মারপিট করে হাতের আঙ্গুল কেটে দিয়ে বলছে হাতের কবজি কাটা হবে। নির্যাতন করার পর গত ৪২ দিন ধরে এখন সে নিখোঁজ রয়েছে। এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা। ঐ দালাল চক্রের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগির পরিবার। গতকাল মামলার প্রধান আসামি গোপনে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বেতাপুর গ্রামের বাসিন্দা বাদী আবু তাহের চৌধুরী ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে নবীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ছেলে রায়হান চৌধুরীর সহপাটি তারা এক সাথে লেখা পড়া করেছে। এই সুত্র ধরে মোবাইলে ইতালি থেকে দালাল ও মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীম ও তার সহযোগী রাগিব ইতালিতে ফ্রি ভিসায় নেয়ার কথা বলে তার ছেলেকে প্রলুব্ধ করেন। তাদের প্রলোভনে ইতালি যাওয়ার জন্য সম্মত হয়ে বাদী তাদেরকে পাসপোর্ট প্রদান করে। এর কয়েকদিন পর মানবপাচার চক্রের সদস্য শামীমের বাবা নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী হাসেনা বেগম, মেয়ে রিনু বেগম,শান্তা বেগম,রুবিনা বেগম তার বাড়িতে এসে বাদীকে জানায় যে তার ভিসা হয়েছে। তাদের কথা মতো গত ১২ সেপেম্বর ২০২৫ তারিখে বাদী তাদেরকে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর কিছুদিন পরে বাদীর ছেলে রায়হান চৌধুরীর পাসপোর্ট দেয়ার সময় দালাল রাকিব এর বাড়িত গিয়ে আরও নগদ ২লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা পাওয়ার পর মানব পাচার চক্রের সদস্যরা ভিকটিম রাযহান চৌধুরীকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব ও পরে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে যায়। সেখানে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য শামীম ও রাকিব মিলে রায়হান চৌধুরীকে ইতালি না পাঠিয়ে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। 
তারা রায়হান চৌধুরীর মা, বাবা সহ আত্বীয় স্বজনকে ফোন করে জানায় যে, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাইলে কিংবা ইটালি যেতে চাইলে দেশে থাকা তাদের সদস্য নজরুল ইসলামের কাছে আরও ১৫ লাখ টাকা দিতে হবে। রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার একটি আঙ্গুল কেটে দিয়ে বলে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে দিবে। তাই বাধ্য হয়ে ভিকটিমের বাবা জমি ও সোনা বিক্রি করে ১৫ লাখ টাকা দেশে থাকা পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে ও বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করেন। তারা মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার পরও তারা ভিকটিমকে দেশে বা ইতালি পাঠায়নি।
এখন আবারও রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও করে দেখিয়ে আরও ২৫ লাখ দাবি করলে তার বাবা নিরোপায় হয়ে নবীগঞ্জ থানায় মানব পাচার আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে ইতালিতে রায়হান চৌধুরী নিখোঁজ রয়েছেন। দালাল চক্র কোথায় রাখছে কোন খরব পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, আমি মামলা করে বিপাকে পড়েছি। আমি এখন আমার ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না। সে কোথায় কিভাবে আছে আল্লাহ ভালো জানেন। আমার ছেলে রায়হান চৌধুরীকে মারপিট করে ভিডিও কলে দেখায়। তার একটি আঙ্গুল কেটে দিয়ে বলে তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে হাতের কবজি কেটে দিবে। এখন ৪২ দিন ধরে সে নিখোঁজ রয়েছে। আমাকে মামলা তোলার জন্য ও জেলে হাজতে থাকা প্রধান আসামি নজুরুল ইসলামকে জামিনে নিয়ে আসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মোনায়েম মিয়া বলেন, আমাদের কাছে মামলাটি কিছুদিন আগে অধিকতর তদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সিআইডির কাছে প্রেরন করেছি। এখন বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করবেন।