নবীগঞ্জে ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ বঞ্চিত প্রকৃত কৃষকরা
তারিখ: ১৬-জুন-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

নবীগঞ্জ উপজেলায় চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ, কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও কথিত সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে প্রকৃত কৃষকদের বঞ্চিত করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে নবীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ২৪০ টন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ৬১৫ জন কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কৃষক ধান সরবরাহ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমন্বয়ক প্রভাব বিস্তার করছেন। ফলে সাধারণ কৃষকরা তাদের কৃষি কার্ড অন্যদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এসব কার্ড ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট গুদামে ধান সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রমতে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩৪০ টন ধান ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। এদিকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ধানের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ আর্দ্রতাসম্পন্ন ধানও গ্রহণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা নীল রতন রায় বলেন, “সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষি কার্ড নিয়ে যারা ধান দিচ্ছেন, বিল পরিশোধের সময় প্রকৃত কৃষকের নামে চেক প্রদান করা হবে।” তবে অকৃষি ব্যক্তিদের কাছ থেকেও কৃষি কার্ড দেখে ধান গ্রহণের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর করিম মজিদ বলেন, “দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কেউ ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বিএনপি সমর্থন করে না।”
কৃষক গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে আমার জমির ধান নষ্ট হয়েছে। সরকারি কৃষি প্রণোদনাও পাইনি। যে সামান্য ধান পেয়েছি, বাজারে দাম কম থাকায় সরকারি গুদামে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে সুযোগ পাইনি।” এ ঘটনায় প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।