স্টাফ রিপোর্টার ॥
বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর ও আরিছপুর (আব্দাফৌজদা) গ্রামে কবরস্থানের রাস্তার নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দু’ দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ২ জনের মৃৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক লোকজন। গতকাল সোমবার দুপুর ১ টায় ও পরে সন্ধ্যায় সংঘর্ষে জড়ান দুই পক্ষের লোকজন। আহতদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) ও একই গ্রামের গাবরু মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (৩৭)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই গ্রামের মধ্যবর্তী কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের লোকজনের। এর জেরে গতকাল দুপুর ১টায় আদিত্যপুর গ্রামের মিলন ও নাসির এবং আব্দাফৌজদা গ্রামের আব্দুুল হাই ও শালু মিয়ার মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে উভয় গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় স্থানীয় ডুবাঐ বাজারে হাঁসের গাও ও আদিত্যপুর গ্রামবাসী ফের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়ে। এতে দু’ পক্ষের অন্তত্ব অর্ধশতাধিক লোকজন আহত হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেলু মিয়াকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। এছাড়া আহত অবস্থায় কদর আলী (৭০), লুৎফুর রহমান (৩০), আতাউর রহমান (২৫), কুহিনুর (৪১), জাহিদ মিয়া (৫৫), রিমন (১৮), অলফুজ মিয়া (৫০), খলিল মিয়া (৩০), সুহেল মিয়া (৩০), হাবিব মিয়া (২৫), হেলাল মিয়া (৩৭), সিমন (১৮) ও হান্নান (৫০)কে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে হেলাল মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ পারভেজ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দু’ জন মারা গেছেন। দুপুরে সেলু মিয়া ও পরে রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেলাল মিয়া মারা গেছেন। বিষয়টি আমি সিলেট হাসপাতালে থাকা একজনের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি’।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।