বানিয়াচংয়ে হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পলো’ বাওয়া উৎসব
তারিখ: ২৬-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

পলো, বাঁশ দিয়ে তৈরী মাছ শিকারের এক ধরণের ফাঁদ। এক সময় পলো দিয়ে মাছ শিকার করা বেশ জনপ্রিয় ছিল গ্রামীণ সমাজে। বিশেষ করে পৌষ-মাঘ মাসে বিল বা উন্মুক্ত হাওরে দল বেঁধে কাছ শিকার করা হতো। যাকে বলা হয় ‘পলো বাইছ’ বা ‘পলো উৎসব’। জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় এবং কালের পরিক্রমায় এখন সেই ‘পলো বাইছ’ হারিয়ে গেছে। তবে এখনো হারানো সেই ঐতিহ্যকে ঠিকিয়ে রেখে বানিয়াচং উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নের আতুকুড়া গ্রামবাসি। এরই ধরাবাহিকতায় সোমবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বড়আন বিলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে ‘পলো বাওয়া’ উৎসব। যা বিলের পাড়ে দাড়িয়ে উপভোগ করেছে শত শত গ্রামবাসি। ‘পলো বাওয়া’ উৎসবে শুধু আতুকুড়া গ্রামবাসিই নয় মাছ শিকার করতে ভোর থেকেই বিলের পাড়ে জড়ো হতে থাকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শৌখিন মাছ শিকারীরা। 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফুঠার সাথে সাথে বড়আন বিলে আসতে থাকেন শত শত সৌখিন মাছ শিকারি। সকাল ১১টা বাজতেই কোমড়ে ও মাথায় গামছা বেঁধে পলো নিয়ে মাছ শিকারে ঝাঁপিয়ে পড়েন নানা বয়সের মানুষ। পলোর পাশাপাশি হাতাজাল, উড়াল জালসহ নানা ধরণের মাছ ধরার ফাঁদ নিয়ে হইহুল্লোড়ে মেতে ওঠেন সবাই। আশপাশের গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে পেশাদার ও শৌখিন মাছ শিকারিরা ‘পলো বাওয়া’ উৎসবে অংশ নেন। দুপুর পর্যন্ত চলা এ উৎসবে শিকারীদের হাতে ধরা পড়ে বোয়াল, আইড়, শোলসহ নানা প্রজাতির দেশীয় বড় বড় মাছ। শিকারের মধ্যে অনেকেই মাছ ধরতে না পারলেও গ্রাম বাংলার হারানো এমন উৎসবে অংশ নিতে পেরেই খুশি।
তবে মাছ ধরতে আসা সৌখিন শিকারীরা বলেন, এক সময় জেলার বিভিন্ন বিলে প্রতিবছর পৌষ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ‘পলো বাওয়া’ উৎসবের আয়োজন করা হতো। কিন্তু দিন দিন নদী ও বিল ভরাট এবং দখল হওয়ার কারণে হারাতে বসেছে গ্রাম-বাংলার প্রাচীন এই ঐতিহ্য। মাছ ধরার উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখতে নদী ও বিল রক্ষার দাবি মাছ শিকারিদের।
আতুকুড়া গ্রামের বিশিষ্ট মুরুব্বি আব্দুল হেকিম বলেন, বড়আন বিলে প্রতি বছরই আমরা ‘পলো বাওয়া’ উৎসবের আয়োজন করে থাকি। প্রথমে গ্রামবাসি মিলে একটি তারিখ নির্দিষ্ট করা হয় পরে তা সকলকে জানিয়ে দেয়া হয়। নির্দিষ্ট এই দিন এবং সময়ে শুধু আতুকুড়া গ্রামবাসি নয়, জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সৈখিন শিকারীরা এসে মাছ শিকার করে। তিনি বলেন- এটা আমাদের গ্রাম বাংলা ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। 

প্রথম পাতা