স্টাফ রিপোর্টার ॥
শাহ এ এম এস কিবরিয়া শুধুমাত্র হবিগঞ্জের কৃতী সন্তানই ছিলেন না, তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ও হবিগঞ্জের নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নে যে সকল ভূমিকা রেখেছেন, জাতি তা চিরদিন স্মরণে রাখবে। ২১ বছরেও এমন একজন ব্যক্তিত্বের হত্যার বিচার না হওয়াটা খুবই দুঃখজনক। গতকাল ২৭ জানুয়ারি বেলা ১১ টায় স্থানীয় আরডি হল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী; ভাষা সৈনিক ও বিশ্ববরেণ্য অর্থনীতিবিদ শাহ এ এম এস কিরবিয়ার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে হবিগঞ্জে ‘কিবরিয়া ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা একথা বলেন। স্মরণসভা আয়োজক পরিষদের সভাপতি ও বৃন্দাবন সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার প্রধান অতিথি ছিলেন শাহ এ এম এস কিবরিয়ার পুত্রবধূ সিমি কিবরিয়া। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সরকারি মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুজ জাহের ও হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কিবরিয়া ফাউন্ডেশন হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার দেব মনা। আলোচনায় আরও অংশ নেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি সাধন বড়ুয়া, কিবরিয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য শামসুন্নাহার চৌধুরী, সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল, নাট্যমেলার সভাপতি শাহ্ আলম চৌধুরী মিন্টু, খোয়াই থিয়েটারের সভাপতি ও ধরা'র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, শব্দকথা লেখক- পাঠক ফোরামের সভাপতি মনসুর আহমেদ প্রমুখ।
প্রধান অতিথি সিমি কিবরিয়া অনলাইন মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, অনেক বছর ধরে আপনারা এ অনুষ্ঠানটি পালন করে আসায় আমার পরিবারের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জবাসীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আজ আমার পরিবারে দোয়া-মাহফিলের আয়োজন থাকায় আমি সশরীরে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারিনি বলে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের যে ও কোনও আয়োজনে উপস্থিত থাকার আশা প্রকাশ করছি। সভা সঞ্চালনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক সিদ্দিকী হারুন। স্মরণসভার পূর্বে শিশু-কিশোরেরা কিবরিয়া'র প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এরপর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে কিবরিয়া ফাউন্ডেশন, শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন গ্রুপ। এছাড়াও সকাল সাড়ে ১০ টায় আরডি হলে এক শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার সহযোগিতায় ছিলেন চিত্রশিল্পী ও হবিগঞ্জ আর্ট অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের পরিচালক আশীষ আচার্য্য। পুরো অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে ছিল শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশন ও সুন্দরবন গ্রুপ। সভা শেষে প্রতিযোগিতয় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও শীতার্ত মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।