শরীফ চৌধুরী/জাকারিয়া চৌধুরী ॥ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর মানবতা বিরোধী মামলার আসামী রাজাকার কমান্ডার ইউপি চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়ার নেতৃত্বেই আলবদর বাহিনী ৭১ সালে খাগাউড়া রাজাকার ক্যাম্পে শত শত নারী পুরুষের উপর চালাত পাষবিক নির্যাতন। যুবতিদের ধরে নিয়ে ‘খাগাউড়া সাহেব বাড়ি রাজাকার ক্যাম্পে’ নিয়ে জোরপূর্বক চালানো হত গণধর্ষণ। দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচারের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে স্বাধীনতা যুদ্বে মুক্তিযোদ্বা ও সাধারণ জনগণের উপর কুখ্যাত রাজাকার আঙ্গুর মিয়া ও তার সহযোগীদের দ্বারা পাষবিক নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী বের হয়ে আসতে শুরু করেছে।
শহীদ মুত্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার বড় ভাই নুরুল ইসলাম সমাচারকে জানান, রাজাকার কমান্ডার মোস্তফা মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী ৭১ সালের মে মাস থেকে খাগাউড়া গ্রামের সাহেব বাড়িতে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করে খাগাউড়া ও আশেপাশের বিভিন্ন গ্রামের নারী পুরুষদের ধরে এনে নির্যাতন চালাতে শুরু করে। এ সময়ে তাদের নেতৃত্বে ২০/৩০ জনের একদল রাজাকার বাহিনী আশেপাশের হিন্দু গ্রাম গুলোতে ও হামলা চালিয়ে অগ্নি সংযোগ ও লুটপাট চালায়। বাড়ি ঘর থেকে সুন্দুরী যুবতিদের ধরে নিয়ে ক্যাম্পের ভিতরে চালানো হত শারিরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ। শুধু তাই নয় শহীদ মুক্তিযোদ্বাদের পরিবার গুলোও রেহাই পায়নি এই আলবদর বাহিনীর হাত থেকে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকল মিয়ার খালাত বোন খেওয়া বিবি জানান, তার ভাই কে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যার পর তাদেরকেও বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় রাজাকার আঙ্গুর মিয়াও তার সহযোগীরা। রাতের পর রাত তাদেরকে কাটাতে হয়েছে বন জঙ্গলে। এমনকি আলবদর বাহিনীর ভয়ে মানুষের বাড়ির লেট্রিনেও তাদেরকে আশ্রয় নিতে হয়েছে। অপর এক মুক্তিযোদ্ধা জানান,৭১ সালে ৩০ নভেম্বর ৩নং সেক্টরের অধীনস্ত বাহুবলের সারংপুর থেকে হাবিলদার শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান বাচ্চুর নেতৃত্বে ৩৩ জনের একটি মুক্তি বাহিনী শেষ রাতে খাগাউড়া রাজাকার ক্যাম্পটি দখল করে নিয়ন্ত্রনে নেয়। ওই সময় এ ক্যাম্পে অসংখ্য নারী পুরুষ বন্দি ছিল। ভোরে রাজাকার কমান্ডার মস্তোফা মিয়া ক্যাম্পে প্রবেশ করতে গেলে মুক্তি বাহিনীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এসময় অপর কমান্ডার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আঙ্গুর মিয়া পালিয়ে যায়। কোন উপায়ন্তর না দেখে এসময় ক্যাম্পের ভিতরে থাকা অন্যান্য রাজাকাররা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে।