মাধবপুরে জগন্নাথ মন্দিরে চরম অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তি বেহাত হওয়ার শঙ্কা
তারিখ: ১৮-জানুয়ারী-২০২৬
মাধবপুর প্রতিনিধি ॥

 মাধবপুর উপজেলার গিলাতলীর ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ মন্দির ও আখড়ায় দীর্ঘদিন ধরে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে মন্দিরের বিপুল সম্পত্তি আজ বেহাত হওয়ার পথে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মন্দিরের নামে দিঘি ও বিস্তীর্ণ জমিসহ উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি থাকলেও সেগুলো কোনো নিয়মিত ও স্বচ্ছ আয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বরং এতদিন যারা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধেই এখন অর্থ আত্মসাৎ ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্দির ও আখড়ার জমি, দিঘি এবং অন্যান্য সম্পত্তি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে প্রতি বছর এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব ছিল। ওই অর্থ দিয়ে মন্দির ও আখড়ার সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং পুরোহিত ও যোগীদের ন্যায্য ভাতা নিশ্চিত করা যেত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। আয় থাকার পরও মন্দিরের উন্নয়ন কার্যক্রম থমকে আছে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠেছে।
মন্দিরের পুরোহিত ও যোগীরা বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। মন্দিরের পুরোহিত শিমুল চক্রবর্তী বলেন, “মন্দিরের আয় থাকা সত্ত্বেও আমরা ঠিকমতো ভাতা পাই না। মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আখড়া, জমি ও দিঘি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে প্রতি বছর অনেক টাকা সঞ্চয় করা যেত। সেই অর্থ দিয়ে মন্দির ও আখড়ার নানা উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু যারা এতদিন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টির সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শ্রীধাম দাশ গুপ্ত বলেন, “জগন্নাথ মন্দির ও আখড়া সনাতন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিন্তু সঠিক পরিচালনার অভাবে মন্দির ও আখড়ার সম্পত্তির ওপর কিছু মানুষের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। পরিচালনার নামে তারা নিজেদের পকেট ভারি করেছেন। তাই অতীতের আয়-ব্যয়ের পূর্ণ হিসাব নিরীক্ষা করে দ্রুত একটি নতুন ও স্বচ্ছ পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি।”
হিউম্যান রাইট কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম)-এর সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক রাকেশ রায় বলেন, “ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সম্পত্তি আত্মসাৎ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এসব প্রতিষ্ঠান মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে জড়িত। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা উচিত।”
, মন্দির ও আখড়ার যেসব সম্পত্তি ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠন করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে মন্দিরের বাকি সম্পত্তিও দখল ও বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম বলেন, “মন্দির সংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

প্রথম পাতা