গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে আমাদেরকে থাকতেই হবে
তারিখ: ১৮-জানুয়ারী-২০২৬
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টানা ৩ বারের নির্বাচিত হবিগঞ্জ পৌরসভার পদত্যাগকারী মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন- ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদেরকে ভবিষ্যতে চলার পর সুন্দর করতে হবে। অন্যায়কে নিজের সঙ্গে রাখা যাবে না। ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে, দেশের পক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে আমাদেরকে থাকতেই হবে। যারা অন্যায় করেছে, জুলুম করেছে আজ তাদেরকে খোঁজে পাওয়া যায় না। তারা হাটে-ঘাটে বাজারে মসজিদে যেতে চায় না। কারণে জনগণকে তারা ভয় পায়। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে বলে আসছি, আওয়ামীলীগ জনবিচ্ছিন্ন একটি রাজনৈতিক দল, জনগণের সাথে আওয়ামীলীগের সম্পর্ক নেই। কারণ জনগণের প্রতি আওয়ামীলীগের বিশ্বাস নেই। আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, দিনের ভোট রাতে নিয়েছে, জনগণের সম্পদ চুরি করেছে, তারা মানুষকে সম্মান করতো না। আওয়ামীলীগ টাকা ছাড়া আর কিছুই বুঝতো না। যাদের টিনসেটের বাড়ি ছিল তারা পাকা বাড়ি বানিয়েছে, যাদের একতলা বাড়ি ছিল তারা ছয়তলা বাড়ি বানিয়েছে, কিন্তু শেষ পরিণতি তাদের বাড়িতে সন্ধ্যা বাতি জ্বলে না।
তিনি গতকাল শনিবার বিকালে লাখাই উপজেলার বুল্লা ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ ও ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। 
মাহফিলে জি কে গউছ আরও বলেন- গত ১৭ বছর শিক্ষা জীবন শেষ করেও দেশের তরুণ তরুণীরা চাকুরী পায়নি। তারা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহন করেছে, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছে, কিন্তু ভিন্ন মত ভিন্ন পথ অনুস্বরণ করার কারণে, আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকার কারণে, যোগ্যতা থাকার পরও চাকুরীর ব্যবস্থা হয়নি। আওয়ামীলীগ যারা করেছে তারাই রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিয়েছে। 
তিনি বলেন- সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের নেত্রী। সকল ধর্মের মানুষকে তিনি হৃদয়ে ধারণ করতেন, সকল দলকে তিনি সম্মান করতেন। সকল দল যাতে রাজনীতি করতে পারে, সে জন্য খালেদা জিয়া গুম খুনের মাধ্যমে রাজনীতিকে কুলুষিত করনেনি। তিনি বিশাল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। তিনি নিজে কষ্ট পেয়েছেন, হামলা মামলা, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন, কিন্তু তিনি জবান দিয়ে কাউকে আক্রমণ করেননি। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালিন খালেদা জিয়ার নিকট সকল ধর্মের মানুষ নিরাপদ ছিলেন। প্রতিটি মানুষ খালেদা জিয়ার নিকট সম্মানীত হয়েছেন, প্রতিটি সেক্টরে খালেদা জিয়া মানুষের জন্য কাজ করেছেন। খালেদা জিয়া ইসলাম ধর্মের জন্য যেভাবে কাজ করেছেন, ঠিক একেইভাবে সনাতন ধর্মের মানুষের জন্যও কাজ করেছেন। মানুষের জন্য কাজ করে খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।
জি কে গউছ বলেন- খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের জন্য ৪৩টি বছর নিরলসভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও দেশকে গণতন্ত্রকে দেশের স্বাধীনতা সাবভৌমত্বকে অন্যের কাছে বিলিয়ে দেননি। ন্যায়ে পক্ষে সত্যের পক্ষে সব সময় ছিলেন আপোষহীন। কোনো দিন কোনো স্বার্থের কাছে মাথা নত করেননি। কোনো স্বৈরশাসকের লোভে পা দিয়ে জাতির সাথে বেইমানী করেননি। তিনি আমাদের অহংকার, তিনি আমাদের গর্ব।
বিশিষ্ট মুরুব্বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মিয়া মোঃ আব্দুল আমিন ও আবু হুরায়রার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট হাজী নুরুল ইসলাম, সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ তালুকদার আব্দাল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ড. আব্দুল আহাদ স্বপন, সিনিয়র সহ সভাপতি শেখ ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবদলের আহবায়ক জালাল আহমেদ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু প্রমুখ।

প্রথম পাতা