দুই মহিলা মেম্বারকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর আদায় ॥ মক্রমপুর ইউপি’র মেম্বার আজমানের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ
তারিখ: ২১-মে-২০২১
স্টাফ রিপোর্টার ॥

 বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের দুই মহিলা মেম্বারকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর আদায় করার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার মোঃ আজমান মিয়ার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দুই মহিলা মেম্বার। এতে তারা মেম্বারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে মক্রমপুর ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার মোছাঃ সাফিয়া আক্তার ও মোছাঃ মমিন চান বিবির নাম ব্যবহার করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আহাদ মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি অভিযোগ দেয়া হয়। বিষয়টি ওই দুই মহিলা মেম্বার অবগত নন। তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর

নিয়ে একই ইউনিয়নের মেম্বার আজমান মিয়া এ অভিযোগটি দাখিল করেছেন। যা সম্পূর্ণ্য বানোয়াট, সাজানো ও মিথ্যা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া কোন প্রভাব ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেননি। তিনি ইউনিয়নের সকল সদস্যদের সাথে নিয়ে নিয়মিত পরিষদের মাসিক সভা করেন ও সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিষদের কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন।

সম্প্রতি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জনপ্রতি সাড়ে ৪শ টাকা আর্থিক সহায়তা পরিষদের সকল সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে তালিকা তৈরী করে সুষ্টুভাবে বন্টন করেছেন। বিতরন কার্যক্রমে ট্যাগ অফিসার, ইউপি সচিব ও মেম্বারগনসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এতে কোন রকম অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করা হয়নি। এছাড়াও চেয়ারম্যান আহাদ মিয়া ২০১৯-২০ সালের ১৮১ জন ভিজিডি কার্ডধারীর দুঃস্থ মহিলাদের সঞ্চয়কৃত টাকা তাদের স্ব-স্ব ব্যাংক একাউন্টে জমা করেন। পরবর্তীতে কার্ডধারীরা নিজেদের একাউন্ট থেকে ওই টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের টিআর, কাবিখা, এলজিএসপি, ভিজিএফ ও ৪০ দিনের কর্মসৃজনসহ সকল প্রকল্প বিষয়ে মেম্বারদের সাথে আলোচনা করে তালিকা তৈরী করা হয়। পরে পরিষদের মাসিক সভায় উপস্থাপন করে রেজুলেশনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে কাজ সম্পন্ন করছেন তিনি। এতে কোন অনিয়ম ও দূর্নীতি করা হয়নি।

মেম্বার আজমান কর্তৃক বানোয়াটকৃত অভিযোগে চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা ও প্রভাবশালী গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় ভয়-ভীতি দেখিয়ে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর আদায় করে অবৈধ কাজকে বৈধ করে আসছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যা মিথ্যা ও মানহানীকর বলে তাদের অভিযোগে দাবী করছেন ওই দুই মহিলা মেম্বার। তারা অভিযোগে দাবী করছেন চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তায় ইর্ষানীত হয়ে এবং মেম্বার আজমান তার ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে সুষ্টু তদন্ত করে মেম্বার আজমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তারা জেলা প্রশাসকের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

প্রথম পাতা